স্টাফ রিপোর্টার:

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার শাহীন স্কুল নন্নী বাজার শাখার পরিচালক শাহ আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর অশোভন আচরণ ও অনিয়মের কারণে স্কুলের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর থেকে শাহ আলম অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। তার এই আচরণের কারণে বেশ কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে গেছে এবং উপস্থিতি কমে গেছে। এছাড়া কিছু শিক্ষকও তার ষড়যন্ত্র ও অব্যবস্থাপনার কারণে পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে আরও ১-২ জন শিক্ষকের পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শাহ আলম অভিভাবকদের কাছে নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি স্কুলে ‘র‍্যাফেল ড্র’ বা লটারির আড়ালে ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার খবর মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এছাড়া তার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক খুবই খারাপ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সূত্র জানায়, পরিচালক হওয়ার আগে প্রশিক্ষক হিসেবে থাকাকালে শাহ আলমের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। তবে তাকে সাধারণ শিক্ষক হিসেবে অন্য শাখায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে বদমেজাজি ও অহংকারী চরিত্রের কারণে তার প্রতি অনেকেই ক্ষুব্ধ এবং তার দুঃসাহসিক আচরণের কারণে স্কুলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

অভিভাবক আশরাফুল আলম উজ্জল অভিযোগ করেন, “পরিচালক শাহ আলম অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। মিটিংয়ে তাকে অপমানিত হতে হয়। তিনি অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”

অন্য একজন অভিভাবক হালিমা খাতুন বলেন, “আমার সন্তানকে টাই কিনতে গেলে পরিচালক কর্তৃক বকা-বকি ও অপমানিত হয়েছি, তারপর আমাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।”

এক শিক্ষার্থীর পিতা বলেন, “আমার সামনে পরিচালক এক সিনিয়র শিক্ষককে অপমান ও দুর্ব্যবহার করেন।”

সদ্য পদত্যাগ করা এক শিক্ষক জানান, “আমরা বিনা বেতনে তিন মাস ধরে কাজ করেছি, কিন্তু বর্তমান পরিচালকের নানা কেলেঙ্কারির কারণে কয়েকজন শিক্ষক ছেড়ে চলে গেছেন। তার দাপট ও ষড়যন্ত্রের কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।”

অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, “এগুলো তুচ্ছ ঘটনা। যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তারা স্বেচ্ছায় করেছে, কাউকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। আমি কাউকে দুর্ব্যবহার করিনি। অভিযোগকারীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ মিটিং করে বিষয় মিটমাট করেছে।”

শাহীন স্কুলের আঞ্চলিক প্রধান আব্দুল গফুর জানান, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”